বিস্ময়কর কোরআন

পর্ব 5

কুরআনে আল-মাহদি

সৃষ্টির ছয় দিনের ধারণাটি সুপরিচিত এবং এটি শুধু কুরআনে নয়, বাইবেলেও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে Old Testament এ। তবে, আমরা কুরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখব যে, এই “দিনগুলি”কে সরাসরি আসমানী নির্দেশনার সময়কাল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এই ব্যাখ্যাটি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে বোঝার জন্য, আমরা বিশেষভাবে সূরা ফুসসিলাত-এর উপর মনোনিবেশ করব, যা কুরআনের ৪১তম অধ্যায়। আমাদের পর্যালোচনা এই সূরার প্রথম ১২টি আয়াতের উপর কেন্দ্রীভূত হবে, কারণ এগুলি এই ধারণার বিষয়ে মূল অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।

সূরা ফুসসিলাত (সূরা ৪১)

Ha. Meem. (41:1)

হা। মীম। (41:1)

(It is) Repeated access provided from Ar-Rahman, the merciful: (41:2)

(এটি) পরম করুণাময় আর-রহমান থেকে বারবার উপলভ্য করা হয়েছে: (41:2)

A scripture whose signs are (to be) divaricated into a concinnated Qur’an for people who seek evidence-based knowledge. (41:3)

একটি কিতাব, যার আয়াতসমূহ সুসংহত আরবী কুরআনে কৌনিক শাখা বিন্যাস করা (হবে) তাদের জন্য যারা প্রমাণ-ভিত্তিক জ্ঞান অনুসন্ধান করে। (41:3)

(You are) a provider of glad tidings and a warner, but most of them have ignored (your message) and thus they do not hear (the divine guidance), (41:4)

(তুমি) সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী, কিন্তু তাদের বেশিরভাগই (তোমার বার্তা) উপেক্ষা করেছে এবং তাই তারা (আসমানী নির্দেশনা) শোনে না। (41:4)

And they said: “Our cores are shielded with blankets, (unavailable to receive) from that to which you invite us, and in our ears, deafness, and between us and you there is a shield. And thus you toil (your way): We shall toil (our way)!” (41:5)

আর তারা বলল: “আমাদের অন্তরগুলো আবরণে ঢাকা, যে বিষয়ের দিকে তুমি আমাদের আহ্বান কর তা (গ্রহণ করতে অক্ষম), আর আমাদের কানে বধিরতা, এবং আমাদের ও তোমার মাঝে রয়েছে একটি পর্দা। সুতরাং তুমি (তোমার পথে) মেহনত কর: আমরাও (আমাদের পথে) মেহনত করব!” (41:5)

Say: “I am but a human being like you! I am enjoined (to remind you) that your deity is a single deity, and thus seek to restore (your ways) towards him, and seek to reconnect with him, and woe to those who associate (with him)!” (41:6)

বলো: “আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ! আমি আদিষ্ট হয়েছি (তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিতে) যে তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য, তাই তাঁর দিকে (তোমাদের পথ) সংশোধন কর, এবং তাঁর সাথে পুনঃসংযোগ স্থাপন কর, আর দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা (তাঁর সাথে) শরিক করে!” (41:6)

(Those are) The ones who do not allow others to develop, and who are rejecters of the delayed, diligent understanding. (41:7)

(তারাই) সেইসব লোক যারা অন্যদের বিকশিত হতে দেয় না, এবং যারা বিলম্বিত, অধ্যবসায়ী উপলব্ধি প্রত্যাখ্যান করে। (41:7)

(In contrast) Indeed, those who believed and toiled on the scripture in accordance with the divine terminology, to them is a recompense that is unrestricted. (41:8)

(এর বিপরীতে) নিশ্চয়ই, যারা বিশ্বাস এনেছে এবং আসমানী পরিভাষা অনুযায়ী কিতাবের উপর মেহনত করেছে, তাদের জন্য রয়েছে অসীম প্রতিদান। (41:8)

Say: “Do you reject the one (Allahh) who created the scripture (to be provided) in two time periods (in total), and you ascribe to him peers?” That is the lord of the realms! (41:9)

“তোমরা কি তাঁকে (আল্লাহকে) অস্বীকার করো যিনি কিতাবকে (মোট) দুই সময়কালে (প্রদানের জন্য) সৃষ্টি করেছেন, এবং তোমরা কি তাঁর জন্য সমকক্ষ স্থির করছো?” তিনিই জগতসমূহের প্রভু! (41:9)

আপনি কীভাবে কিতাবের সাপেক্ষে সমকক্ষ আরোপ করেন? এটা এজন্য যে মানুষ কিতাব ব্যাখ্যা করার প্রক্রিয়ায় তাদের নিজস্ব কর্তৃত্ব নিয়ে আসে। আল্লাহ রচনাশৈলী নির্বাচন করেন, আল্লাহ শব্দভাণ্ডার নির্বাচন করেন, আল্লাহ এই শব্দগুলির ব্যাখ্যা এবং ইঙ্গিত নির্ধারণ করেন।

কিন্তু এমন কিছু লোক আছে যারা বাহ্যিক রেফারেন্স এবং বাহ্যিক উৎস নিয়ে আসে আল্লাহর কিতাবের উপর আরোপ করার জন্য। এটাকে আল্লাহর সাথে সমকক্ষ আরোপ করা হিসেবে সংজ্ঞায়িত বা বর্ণনা করা হয়।

দুটি সময়কালে আমরা দুটি ভিন্ন কিতাব পেয়েছি। প্রথমটি মূসার জন্য, দ্বিতীয়টি মুহাম্মদের জন্য – দুটি ভিন্ন কিতাব।

And he has remanded in it (in the scripture of the first time period) principles above it (i.e., not within it, governing its interpretation), and he conferred blessings using it, and he proportioned its nourishments in four time periods, in due balance for those who inquire. (41:10)

আর তিনি (প্রথম সময়কালের কিতাব*) এর ঊর্ধ্বে নীতিমালাগুলো নির্দিষ্ট করেছেন (অর্থাৎ, যা এর মধ্যে নয়, কিন্তু এর ব্যাখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে), এবং তিনি এর মাধ্যমে বরকত প্রদান করেছেন, এবং তিনি এর পুষ্টিসমূহ আনুপাতিত হারে চার সময়কালে** পরিমিতভাবে বণ্টন করেছেন, তাদের জন্য যারা জিজ্ঞাসা করে। (41:10)

তাওরাত কুরআনের মতো নয়। তাওরাতে আল্লাহ প্রদত্ত পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত নেই। আল্লাহ সেই মূল নীতি এবং নির্দেশনাগুলি প্রদান করেছিলেন যা নবীগণের মাধ্যমে এসেছিল। তারা একে অপরের পর এসেছিলেন তাদের লোকদের কাছে বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করার জন্য। তাওরাত এভাবেই ডিজাইন করা হয়েছিল, এর নিজস্ব পদ্ধতি নেই।

অন্যদিকে, কুরআনের নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য যা লোকদের বিভ্রান্ত করেছিল যখন তারা ধরে নিয়েছিল যে কুরআনকে তাওরাতের মতো একইভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। কুরআন সেরকম নয়, কুরআন আলাদা।

কুরআনকে সর্বদা বর্ণনা করা হয় যে এটি আমাদের কাছে মূল নীতিগুলি উপস্থাপন করে, যেখানে তাওরাতের ক্ষেত্রে এগুলি এর উপরে ছিল। সাধারণ মানুষের পক্ষে তাওরাতের সাথে কীভাবে deal করতে হবে তা বোঝা সহজ ছিল না।

*Note: কিতাব = তোরাহ = বিমুর্ত বোধগম্যতার একটি স্তর

**Note: চারটি সময়কালঃ
1st, মূসা ও হারূন এর সময়কাল
2nd, দাউদ ও সুলাইমান এর সময়কাল
3rd, যাকারিয়া, মারিয়ম, ইয়াহয়িয়া ও ঈসা ইবনে মারিয়ম এর সময়কাল
4th, মোহাম্মদ (সাঃ) (যিনি বনী ইসরাইলের নবি ছিলেন) এর সময়কাল

And then (after a while), he sought to bring (back) balance to the abstract understanding after it has become (opaque like) smoke, and then he commanded it and the (first) scripture: “Avail yourselves (i.e., your content) either willingly or forcibly! They both said: “We shall avail ourselves (i.e., our content) willingly!” (41:11)

এরপর (কিছু পর), তিনি বিমূর্ত বোধকে পুনরায় ভারসাম্যে আনার চেষ্টা করলেন যখন এটি ধোঁয়ার মতো (অস্বচ্ছ) হয়ে গিয়েছিল, এবং তিনি তখন এটিকে এবং (প্রথম) কিতাবকে আদেশ দিলেন: “তোমরা স্বেচ্ছায় বা জোরপূর্বক নিজেদের উপস্থাপন করো (অর্থাৎ, তোমাদের বিষয়বস্তু প্রকাশ করো)!” তারা উভয়েই বলল: “আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের উপস্থাপন করব (অর্থাৎ, আমাদের বিষয়বস্তু প্রকাশ করব)!” (41:11)

আল্লাহ বলেন যে তিনি তাওরাতের বিমূর্ত বোধগম্যতার ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন, যা ধোঁয়ার মতো অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপর তিনি এটি অর্থাত প্রথম কিতাবকে  ইচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে নিজেদেরকে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কাছে উপস্থাপন করতে নির্দেশ দিলেন। উভয়েই জবাব দিল যে তারা স্বেচ্ছায় তাদের বিষয়বস্তু প্রদান করবে।

এটি রূপক ভাষা যা তাদের বোধগম্যতা অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য হয়ে যাওয়ার পরের ঘটনা বর্ণনা করে। আল্লাহ বনি ইসরাইলের কাছে শেষ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) পাঠালেন এবং তাকে তাওরাতের পূর্ণ বোধগম্যতা প্রদান করলেন। এটি কোনো বাস্তব তাওরাতের কথা বলে না, যা অস্তিত্বহীন ছিল, বরং কিতাবের সাথে সম্পর্কিত বোধগম্যতার কথা বলে।

And he thus, decreed them (to be organized) into seven layers of understanding, to be made available in two time periods. And he enjoined within each layer of understanding its own command. And we have decorated the lowest layer of understanding with lanterns, and for the sake of protection! That is the proportioning decreed by (Allahh) the unassailable, the provider of evidence-based knowledge. (41:12)

আর তিনি এভাবে তাদেরকে বোধের সাতটি স্তরে (বিন্যস্ত হতে) নির্ধারণ করেছেন, যা দুই সময়কালে* উপলব্ধ করা হবে। আর তিনি প্রতিটি বোধের স্তরের মধ্যে এর নিজস্ব আদেশ প্রত্যাদেশ করেছেন। এবং আমরা সর্বনিম্ন বোধের স্তরকে প্রদীপমালা দিয়ে সুসজ্জিত করেছি, সুরক্ষার জন্য! এটি হলো পরাক্রমশালী, প্রমাণ-ভিত্তিক জ্ঞানদানকারী (আল্লাহ) কর্তৃক নির্ধারিত অনুপাত। (41:12)

আমরা বলেছি যে আস-সামা হল বিমূর্ত বোধগম্যতা, এটি সত্য, কিন্তু এটি বিশেষভাবে তাওরাতের সাথে সম্পর্কিত বিমূর্ত বোধগম্যতা। অন্যদিকে, কুরআন উল্লেখ করে সাত স্তরের বোধগম্যতা বা বহুবচন সামাওয়াত হিসেবে।

তাওরাতের ক্ষেত্রে এটি বোঝার একটি উপায় ছিল – আস-সামা। কিন্তু কুরআনের ক্ষেত্রে, একই ধরনের অনুশীলনের মধ্যে বোঝার বহুবিধ স্তর রয়েছে। এই সবগুলো স্তর পাঠের থেকে পৃথক, যেমন আমরা আগে বলেছি। এবং এই সাতটি স্তর সবাই পাওয়ার যোগ্য যারা কুরআনের উপর মেহনত করে।

*Note: কিতাব = কোরআন = বোধগম্যতার সাতটি স্তর
5th, মুহাম্মদ (সাঃ) (রাসূল হিসেবে এবং প্রথম মুহতাদী হিসেবে) এর সময়কাল। তার মিশন: কোরআন বোঝার পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া!
6th, আল-মুহতাদুন (একাধিক লোক, পদ্ধতিতে পথপ্রদর্শক) এর সময়কাল

ছয়টি সময়কাল (ছয় দিনে সৃষ্টি)

1stমূসা ও হারূনকিতাব = তোরাহ = বিমুর্ত বোধগম্যতার একটি স্তর
2ndদাউদ ও সুলাইমান
3rdযাকারিয়া, মারিয়ম, ইয়াহয়িয়া ও ঈসা ইবনে মারিয়ম
4thমোহাম্মদ (সাঃ) (বনী ইসরাইলের নবি হিসাবে)
5thমুহাম্মদ (সাঃ) (রাসূল হিসেবে এবং প্রথম মুহতাদী হিসেবে)কিতাব = কোরআন = বোধগম্যতার সাতটি স্তর
6thআল-মুহতাদুন (একাধিক লোক, পদ্ধতিতে পথপ্রদর্শক)
নংসূরার নামমোট আয়াতঅনুবাদ করা হয়েছে
1আল- ফাতিহা77
2আল-বাকারা28664
3আল-ইমরান20056
4নিসা17632
5আল-মায়িদাহ12035
6আল-আনাম16535
7আল-আরাফ20662
8আল-আনফাল7511
9আত-তাওবাহ1298
10ইউনুস10925
11হুদ12325
12ইউসুফ111111
13আর-রাদ4310
14ইবরাহীম526
15আল-হিজর9918
16আন-নাহল12838
17বনি ইসরাইল11129
18আল-কাহফ11074
19মারিয়াম9853
20ত্বা হা13539
21আল-আম্বিয়া11239
22আল-হাজ্ব7811
23আল-মুমিনুন11832
24আন-নূর646
25আল-ফুরকান7744
26আশ-শুআরা22735
27আন-নমল9356
28আল-কাসাস8828
29আল-আনকাবুত6914
30আল-রুম6034
31লুকমান3424
32আস-সাজদাহ309
33আল-আহযাব7335
34আস-সাবা547
35আল-ফাতির4510
36ইয়া সিন8383
37আস-সাফফাত18252
38সোয়াদ8839
39আয-যুমার7533
40আল-মুমিন8520
41ফুসসিলাত5420
42আশ-শূরা539
43আয-যুখরুফ8935
44আদ-দুখান5919
45আল-জাসিয়াহ3712
46আল-আহকাফ3517
47মুহাম্মদ3813
48আল-ফাতহ299
49আল-হুজুরাত184
50ক্বাফ4524
51আয-যারিয়াত6017
52আত-তুর493
53আন-নাজম6262
54আল-ক্বমর5519
55আর-রাহমান7878
56আল-ওয়াকিয়াহ9696
57আল-হাদিদ297
58আল-মুজাদিলাহ222
59আল-হাশর243
60আল-মুমতাহানা132
61আস-সাফ146
62আল-জুমুআহ115
63আল-মুনাফিকুন111
64আত-তাগাবুন182
65আত-ত্বালাক121
66আত-তাহরীম126
67আল-মুলক308
68আল-ক্বলম528
69আল-হাক্ক্বাহ5219
70আল-মাআরিজ444
71নূহ286
72আল-জ্বিন2828
73মুযাম্মিল202
74মুদাসসির561
75আল-কিয়ামাহ4023
76আল-ইনসান3131
77আল-মুরসালাত5050
78আন-নাবা4040
79আন-নাযিয়াত463
80আবাসা4242
81আত-তাকবির2929
82আল-ইনফিতার1919
83আত-তাতফিক367
84আল-ইনশিকাক2525
85আল-বুরুজ222
86আত-তারিক1717
87আল-আলা190
88আল-গাশিয়াহ261
89আল-ফজর304
90আল-বালাদ207
91আশ-শামস1515
92আল-লাইল210
93আদ-দুহা111
94আল-ইনশিরাহ88
95আত-তীন81
96আল-আলাক1919
97আল-ক্বাদর55
98আল-বাইয়িনাহ83
99আল-যিলযাল88
100আল-আদিয়াত1111
101আল-কারিয়াহ110
102আত-তাকাছুর88
103আল-আসর30
104আল-হুমাযাহ99
105ফীল55
106আল-কুরাইশ41
107আল-মাউন70
108আল-কাওসার30
109আল-কাফিরুন60
110আন-নাসর30
111লাহাব55
112আল-ইখলাস40
113আল-ফালাক55
114আন-নাস66
  62362307